বিজ্ঞানী হাকাটাম কুরেশী

 

গল্পের নামঃ বিজ্ঞানী হাকাটাম কুরেশী।

 

১৮৮২ সাল,

বাহিরে প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে রাস্তায় তেমন কোন গাড়ি চলতে দেখা যাচ্ছে না। এমন একটা সময়ে ইংল্যান্ডের জাতীয় লাব্রেরির পাশে একটি ছোট ল্যাবরেটরিতে কাজ করছিলেন বিজ্ঞানী হাকাটাম কুরেশী।

দীর্ঘ সময় কাজ করার পর বিজ্ঞানী হাকাটাম কুরেশী একটু বিশ্রাম নেওয়ার জন্য এসে দাড়িয়েছেন ল্যাবরেটরির বড় জানালাটার পাশে। কুরেশী যখন জানালা দিয়ে বাহিরে তাকাচ্ছিলেন তখন তিনি দেখতে পান এক অদ্ভুত দৃশ্য।


মতিউর রহমান
লেখক: মতিউর রহমান


বাইরে ঝম-ঝম করে বৃষ্টি পড়ছে। তারচেয়ে বড় কথা হলো আকাশে পূর্ণিমার চাঁদটাও স্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছে। বিজ্ঞানী তার দীর্ঘ জীবনে কোন দিন এই রকম দৃশ্য দেখেননি। বিজ্ঞানী তাকিয়ে আছেন অদ্ভুত কিংবা অতি প্রাকৃতিক এই জোসনা বৃষ্টির দিকে। 

 

কিছুক্ষন আগে বিজ্ঞানী হাকাটাম কুরেশী একটা হরমোন নিয়ে কাজ করছিলেন। আজ তিনি সফল হয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছর পরিশ্রম করার পর বিজ্ঞানী হাকাটাম কুরেশী এই হরমোনটি আবিষ্কার করেছেন। আবিষ্কারের এই ২০ বছর কখনো রাতের বেলা দুই চোখ এক করতে পারেননি কুরেশী।

 

আজকের রাতটা তাঁর জীবনের গত বিশ বছরের মধ্যে শ্রেষ্ঠ রাত। তিনি তার কাঙ্খিত হরমোনটি আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন । এবং সেই সাথে উপভোগ করছেন জোসনা ঝড়া বৃষ্টি। এই হরমোন টা তৈরি করতে গিয়ে কতটা সুন্দর সময় অতিবাহিত হয়েছে তা তিনি কল্পনাও করতে পারেন নি। যদি কখন পারতেন তাহলে তিনি আজ এই হরমোনটি আবিষ্কার কর তার পক্ষে সম্ভব হতো না।

 

এই মুহুর্তে বিজ্ঞানী কুরেশী ভাবছেন, তার আবিষ্কৃত হরমোনটির নাম কি দেওয়া যায়। তিনি কোন নাম খেঁজে পাচ্ছেন না। কেন পারছেন না তা তিনি জানেন না। তিনি যদি কোন কথাসাহিত্যিক কিংবা কোন কবি হতেন তাহলে হয়তো, চট করে কোন একটা নাম তৈরি করে নিতে পাতেন। কিন্তু তিনি তো কোন সাহিত্যিক না।

 

হঠাৎ বিজ্ঞানী বলে ওঠলেন, “পেয়েছি, নাম পেয়েছি, আমার আবিষ্কৃত হরমোনের নাম হবে “জোসনার ফোটা”।

 

এই জোসনার ফোটা নামক হরমোনটি আবিষ্কার করতে বিজ্ঞানী কুরেশী প্রাণী জগতের বিভিন্ন পর্বের প্রাণীদের মধ্য থেকে বাছাই করা ৩৯ প্রজাতীর প্রাণীর দেহ থেকে আলাদা আলাদা হরমোন সংগ্রহ করেন। সেই ৩৯ টি প্রাণীর মধ্যে তিনি নিজেও একটি।

 

বিজ্ঞানী কোন কারনে তার থিসিসের কোন জায়গায় কোনকোন প্রাণীর দেহ থেকে তিনি হরমোন ট্রান্সপ্লান্ট করেছেন তা উল্লেখ্য করেননি। কেন উল্লেখ করেননি তা শত চেষ্টা করেও জানতে পারা যায়নি। শুধু মাত্র একটি কথা জানা যায় যে ক্লুটিনা নামক একধরণে নিষ্কৃয় হরমোন তিনি তাঁর নিজের দেহ থেকে নিজের আবিষ্কারে বিনিয়োগ করেছিলেন।

 

তার আবিষ্কারের মূল উদ্দশ্য ছিল, তিনি এমন একটি হরমোন তৈরি করবেন যেটি মানব দেহে প্রবেশ করালে মানুষের দেহে একটা অতি প্রাকৃতিক শক্তির সৃষ্টি হয়।

 

যেই দেহে হরমোনটি ইনজেক্ট করানো হবে, সেই মানুষটি, যে কোন মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে দিতে পারবে, মানুষটি এখন কি চিন্তা করছে এবং কি করতে যাচ্ছে।

 

এখন শুধু একটা কাজ বাকি। তাঁর আবিষ্কৃত জোসনা বৃষ্টি নামক হরমোনটি আদৌ কাজ করছে কি না, বিষয়টি পরিক্ষা করার মতো কোন লোক পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বিজ্ঞানী কুরেশী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার নিজের আবিষ্কার তিনি তাঁর নিজের উপর প্রথম প্রয়োগ করবেন।

 

এখন রাত তিনটা, হরমোনের প্রথম ডোজ তিনি দশ মিনিট আগে নিজের শরীরে ইনজেক্ট করেছেন । এখন দ্বিতীয় ডোজ ইনজেক্ট করার পালা। এমন সময় ল্যাবরেটরির জানালায় এসে বসল একটি কালো কাক। বিজ্ঞানী কুরেশী সেদিকে তাকাতেই কাকটি কাকা শব্দ তুলে উড়ে গেল, পশ্চিমের দিকে। বিজ্ঞানী চমকে ওঠলেন। তিনি কাকের ভাষা বুঝতে পারছেন।

 

কাকটি বলল, “তুমি মরবে, তোমার যে মরার ডাক এসে গেছে”।

এই কথা শুনে বিজ্ঞানী একটু ঘাবরে গেলেন কিন্তু দমে গেলেন না।

 

তিনি তার আবিষ্কারের ২য় ডোজ তার নিজের শরীরে ইনজেক্ট করলেন। কিছুক্ষনের মধ্যে বিজ্ঞানীর শরীরে একধরনের ঝাকুনি শুরু হল। সাথে সাথে বিজ্ঞানী পাশে থাকা চেয়ারে বসে পড়লেন। চেয়ারে বাসার সময় তিনি স্পষ্ট শুনতে পেলেন, কেউ থাকে বলছে, না, চেয়ারে বসবেন না। কিন্তু ততক্ষনের তিনি চেয়ারে বসে পড়েছেন।

তিনি চাইছেন ওঠে দাড়াতে পাড়ছেন না। ধীরে ধীরে তার সমস্থ শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ছে।

হঠাৎ করে রক্তে অক্সিজেনের পরিমান কমে যাওয়ার কারণে তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। তার মৃত দেহ দেখে তা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছিল।

কিছুক্ষণের মধ্যে বিজ্ঞানী তার চোখের পাতা চিরদিনের মতো বন্ধ করে নিলেন।


লেখক: মতিউর রহমান।

ছাত্র মৌলীবাজার সরকারী কলেজ।

মতিউর রহমান 




Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url